সৗেদি অর্থনীতির বৈচিত্র্যায়ণে চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে বিনোদন খাত

সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান বিনোদন খাত দেশটির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠছে।

সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান বিনোদন খাত দেশটির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বৃহত্তর অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এ খাত। খবর আরব নিউজ।

জ্বালানি তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে আসতে ব্যাপক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে উপসাগরীয় দেশটি। এর প্রভাবে ক্রমে শক্তিশালী হচ্ছে বিনোদন খাত। সম্প্রতি পরামর্শক সংস্থা আলিক্স পার্টনার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৩ শতাংশ সৌদি ভোক্তা বিনোদনের জন্য ঘরোয়া আয়োজনের বাইরে খরচ বাড়াতে চান, যা বৈশ্বিক গড় ১৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত বছর শিল্পকলা ও বিনোদন খাতে বাণিজ্যিক নিবন্ধন আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে নতুন উদ্ভাবনী শিল্প ও বিনোদন কার্যক্রমে নিবন্ধন ৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮৮। এছাড়া অ্যামিউজমেন্ট পার্ক সম্পর্কিত কার্যক্রম ২৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ১০৮টি।

পরামর্শক সংস্থা আর্থার ডি লিটলের মিডিয়া, বিনোদন, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান শাহিদ খানের মতে, আতিথেয়তা, পর্যটন, খুচরা বিক্রি, রিয়েল এস্টেট ও প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির ঢেউ আনতে পারে বিনোদন খাত।

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের অনুষ্ঠিত প্রধান প্রধান ইভেন্ট ও আকর্ষণীয় স্থান দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক ১০ কোটি পর্যটক টানার লক্ষ্য সাত বছর আগেই অর্জন করতে পেরেছে।’

পরামর্শক সংস্থা অলিভার ওয়াইম্যানের ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট বিভাগের প্রধান গিয়্যোম থিবো বলেন, ‘রিয়াদ ও জেদ্দার মতো শহরগুলো এখন বিশ্বমানের লাইফস্টাইল কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বিনোদন এখন মেগা ইভেন্টের একটি মূল অংশ এবং এগুলো আতিথেয়তা, পর্যটন ও খুচরা খাতকে শক্তিশালী করছে।’

সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিনোদন খাতের জিডিপি অবদান হবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ৪৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

থিবো আরো জানান, সৌদি আরবের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ, যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তারা এ শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক এবং খুচরা ব্যয়েরও বড় একটি উৎস। তরুণ সৌদিরা বিনোদনকে মৌসুমি বিলাসিতা নয় বরং জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চেয়ে এখন তারা বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশীয় বিনোদনে।

অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ণের সুফল পেতে সৌদি আরব সাম্প্রতিক বছরে ব্যবসা ও বিনিয়োগের নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এনেছে। যে কারণে দেশটিতে বিদেশীদের আনাগোনা ক্রমে বাড়ছে। গিয়্যোম থিবো আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অপারেটরদের প্রবেশ আরো বাড়বে এবং খাতটি সৌদি আরবের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সৌদি আরব বর্তমানে বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল সিনেমা বাজারের একটি। ২০১৯-২৪ সালের মধ্যে টিকিট বিক্রি ও বক্স অফিস আয়ে দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং বর্তমানে সৌদি আরবে ছয় শতাধিক সিনেমা স্ক্রিন রয়েছে।

আরও